রবিবার , ১০ এপ্রিল ২০২২ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকুরীর খবর
  10. ঢাকা
  11. ফটোগ্যালারি
  12. বরিশাল
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিবিধ

দ্বিতীয় দিন শেষে ৩১৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ১০, ২০২২ ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে ফলো অনের শঙ্কায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে, প্রথম ইনিংসে টাইগারদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৩৯ রান, সাউথ আফ্রিকার চেয়ে পিছিয়ে ৩১৪ রানে। এর আগে, প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রানে অলআউট প্রোটিয়ারা। ৬ উইকেট শিকারে আলো কেড়েছেন তাইজুল।

বাংলাদেশ দিন শেষ করল ৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে। মুশফিক অপরাজিত ৩০ রানে, ইয়াসির অপরাজিত ৮।

দিনের শেষ ৮ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। তবে খুব স্বস্তির কিছু নেই। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন আরও ১১৫ রান। এই টেস্টের সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশের অপেক্ষায় তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ।

পাহাড়সম রানের চাপ, তামিম-জয়ের কাছে ভালো শুরুর প্রত্যাশা টাইগারদের। যদিও গতি-সুইংয়ে কাজটা কঠিন কোরেছেন অলিভিয়ের। মস্তিস্কের লড়াইয়ে হার মানান, প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান জয়কে।

শান্তর ব্যাট শান্ত থাকলেও, আগ্রাসী তামিম। দৃষ্টিনন্দন শটে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত টাইগার ড্যাশিং ওপেনারের। তবে তামিমের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সফল ভিয়ান মুল্ডার, ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে প্রত্যাবর্তন রাঙানো হয়নি তামিমের। ভাঙে ৭৯ রানের জুটি।

শান্তর প্রতিরোধও টেকেনি বেশিক্ষণ। একই চ্যানেলে বোলিং কোরে টাইগার ব্যাটারকে ফাদে ফেলেন মুল্ডার। ৩ রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে চাঁপে অতিথিরা।

ব্যাটিংয়ে মুমিনুলের আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট। পিটারসনের পিচ্ছিল হাতে জীবন পেলেও, মুল্ডারের অভিন্ন কৌশলে, ব্যর্থতায় ধারাবাহিক মুমিনুল। ((৮৫-৩))

টাইগার ব্যাটারদের ধ্বংসযজ্ঞে মুল্ডারের সঙ্গী অলিভিয়ের।
শেষ বিকেলে গতি আর সুইংয়ে বোকা বানিয়েছেন লিটনকে। তৃতীয় দিন ফলো অন এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশর।

এর আগে, ভেরেনেকে থামিয়ে টাইগারদের দিনের সকালটা রঙিন করেন খালেদ। কথার লড়াইয়ে জমিয়ে তুলে শেষ হাসি টাইগার পেসারের। ((৯৪.৫ ও ৯৬.৪))

শুরুটা স্বস্তির হলেও, প্রোটিয়াদের লেজের দাপটে বিপর্যস্ত অতিথিরা। ৮-এ নামা কেশভ মহারাজের ব্যাটিং তাণ্ডবে মসৃণ হয় স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের পথ। টাইগারদের ত্রাতা হয়ে আসেন তাইজুল, মুল্ডারকে ফিরিয়ে ভাঙেন ৮০ রানের জুটি।

শেষদিকে আগ্রাসন বাড়িয়েছেন মহারাজ, ফিফটিকে রূপ দিতে চাচ্ছিলেন হানড্রেডে। তবে, ৮৪ রানে মহারাজের রাজত্ব থামিয়েছেন তাইজুল। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দশম ফাইফার।

অপ্রতিরোধ্য তাইজুল, হারমারকে বিদায় কোরে গড়েছেন রেকর্ড, ঢুকে গেছেন ১৫০ উইকেটের এলিট ক্লাবে। আর প্রোটিয়াদের শেষ উইকেটটি নেন মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১৩৬.২ ওভারে ৪৫৩ (এলগার ৭০, এরউইয়া ২৪, পিটারসেন ৬৪, বাভুমা ৬৭, রিকেলটন ৪২, ভেরেইনা ২২, মুল্ডার ৩৩, মহারাজ ৮৪, হার্মার ১৯, উইলিয়ামস ১৩, অলিভিয়ের ০*; খালেদ ২৯-৬-১০০-৩, মিরাজ ২৬.২-৪-৮৫-১, ইবাদত ২৮-৩-১২১-০, তাইজুল ৫০-১০-১৩৫-৬, শান্ত ৩-০-৯-০)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ১৩৯/৫ (তামিম ৪৭, জয় ০, শান্ত ৩৩, মুমিনুল ৬, মুশফিক ৩০*, লিটন ১১, ইয়াসির ৮*; অলিভিয়ের ৯-৪-১৭-২, উইলিয়ামস ৮-২-৩০-০, হার্মার ৭-১-৩১-০, মহারাজ ১১-১-৪২-০, মুল্ডার ৬-৩-১৫-৩)।

১২২ রানে নেই ৫ উইকেট, বিপাকে বাংলাদেশ

টিকলেন না লিটন দাসও। ডুয়ানে অলিভিয়রের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে লিটন দাসকে বোল্ড করে দিয়েছেন। আর তাতেই বাংলাদেশের ১২২ রানে নেই ৫ উইকেট। এতে করে আরো বিপদ বাড়ল।
অলিভিয়েরের নতুন স্পেলের প্রথম ওভার সেটি। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢুকে চমকে দেয় লিটনকে। তার ডিফেন্স ভেঙে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল ছোবল দেয় স্টাম্পে। ১১ রানে লিটন হরেন আউট। নতুন ব্যাটসম্যান হিসাবে মুশফিকের সঙ্গে আছেন ইয়াসির আলি।

বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২৭ রান ৫ উইকেটে।

মুমিনুলকে হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

ভিয়ান মুল্ডারের তৃতীয় শিকার হলেন মুমিনুল হক অধিনায়ক। তামিম, শান্তকে আউট করার পর মুমিনুলকেও ফেলেছেন এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে। মুল্ডারের কৌশল সেই একই। রাউন্ড দা উইকেটে অফ স্টাম্পের বাইরে কয়েকটি ডেলিভারি করে হুট করে একটি ভেতরে ঢোকানো। একইভাবে তিনি বিভ্রান্ত করলেন মুমিনুলকে।
তামিমের পর শান্তর বিদায়
টানা দুই ওভারে ভিয়ান মুল্ডারের দুটি উইকেট। তামিমের পর তিনি ফিরিয়ে দিলেন থিতু হওয়া আরেক ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তকেও। আউটের ধরনও প্রায় একই।

আবারও রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারি। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকে অ্যাঙ্গেলে। তামিমের মতো শান্তও অন সাইডে খেলতে গিয়ে ব্যাটের মুখ ঘুরিয়ে ফেলেন আগেই, তার মাথার অবস্থানও ছিল না ঠিক। বল লাগে প্যাডে।

আবেদনে যদিও আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে সফল হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অর্ধশতকের কাছে গিয়ে তামিমের বিদায়
প্রায় এক বছর পর টেস্টে ফিরে ফিফটির কাছে গিয়েও পেলেন না তামিম ইকবাল। অভিজ্ঞ ওপেনার আউট হয়ে গেলেন ৪৭ রানে। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই সাফল্য পেলেন ভিয়ান মুল্ডার।
রাউন্ড দা উইকেটে করা মুল্ডারের ডেলিভারি অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢোকে অ্যাঙ্গেলে। অন সাইডে খেলার চেষ্টায় তামিম ব্যাটের মুখ ঘুরিয়ে ফেলেন একটু আগেই। বল লাগে প্যাডে। প্রোটিয়াদের আবেদনে আঙুল তোলেন আম্পায়ার।

৮ চারে ৫৮ বলে ৪৭ করে আউট তামিম। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮২। নতুন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মুমিনুল হক।

তামিম-শান্ত জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
মাহমুদুল হাসান জয়কে হারানোর ধাক্কা অনেকটাই সামাল দিয়েছে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে। তামিম শুরু থেকেই বেশ বিধ্বংসী। চতুর্থ ওভারে লিজাড উইলিয়ামসকে চার মারেন ওভারে তিনটি। ত্রয়োদশ ওভারে উইলিয়ামসের বলে তার নান্দনিক দুটি বাউন্ডারি।
আরেকপ্রান্তে শান্তও শুরুটা করেন ভালো। ১০৮ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন তামিম-শান্ত ।

তামিম খেলছেন ৪৫ বলে ৪০ রান, শান্ত ৬৩ বলে ৩০।

প্রথম ওভারেই জয়ের বিদায়
ব্যাটিংয়ে শুরুতেই জয়কে হারায় বাংলাদেশ। অলিভিয়েরের বলটি বাতাসে একটু সুইং করে পিচ করে মুভ করে বাইরে বেরিয়ে যায় অনেকটা। জয় সুইংয়ের অপেক্ষা না করেই পা বাড়িয়ে ড্রাইভ করেন। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় প্রথম স্লিপে।
জয়কে হারালেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তামিম-শান্ত। প্রথম ইনিংসে এখন পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৯ রান।

তাইজুলের ৬ উইকেটের পরেও সাউথ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪৫৩
পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে তাইজুলের বোলিং নৈপুন্যে সাউথ আফ্রিকাকে ৪৫৩ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। হার্মারের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টেকেনি সাউথ আফ্রিকার ইনিংস। লিজাড উইলিয়ামসকে আউট করে ইনিংসের ইতি টানলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

সাইমন হার্মারের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে দেড়শ উইকেট স্পর্শ করলেন তাইজুল ইসলাম।

কেশাভ মহারাজের ৮৪ রান প্রোটিয়াদের সংগ্রহ বাড়িয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১৩৬.২ ওভারে ৪৫৩ (এলগার ৭০, এরউইয়া ২৪, পিটারসেন ৬৪, বাভুমা ৬৭, রিকেলটন ৪২, ভেরেইনা ২২, মুল্ডার ৩৩, মহারাজ ৮৪, হার্মার ১৯, উইলিয়ামস ১৩, অলিভিয়ের ০*; খালেদ ২৯-৬-১০০-৩, মিরাজ ২৬.২-৪-৮৫-১, ইবাদত ২৮-৩-১২১-০, তাইজুল ৫০-১০-১৩৫-৬, শান্ত ৩-০-৯-০)।

প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা।

এবাদত-মিরাজদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়েছেন এলগার। টানা তিন হাফসেঞ্চুরিতে, সেন্ট জর্জেস পার্কে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। তবে তাইজুলের ঘূর্ণিতে প্রতিরোধ ভাঙে এলগারের, থামেন ৭০ রানে।

হাফসেঞ্চুরিতে টাইগারদের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন পিটারসন। যদিও হেরাথের পরামর্শে প্রোটিয়া ব্যাটারকে চাপে রাখতে সফল তাইজুল। সাফল্যও পেয়েছেন দ্রুত। প্রথমে ক্লোজ কলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ না দিলেও, রিভিউ নিয়ে সফল মুমিনুল। পিটারসন ফেরেন ৬৪ কোরে।

শেষ বিকেলে বাভুমা-রিকেলটন জুটি বিপদের ইঙ্গিত দিলেও, রিকেলটনকে বিদায় কোরে তৃতীয় উইকেট নেন তাইজুল। প্রথম টেস্ট মতো দ্বিতীয় টেস্টেও আউট দিতে যেন আনিহা আম্পায়ারদের। রিভিউ নিয়ে সফল টাইগাররা।

ঘুরে দাড়ানোর রসদ মিলেছে দিনের শেষদিকে। অসাধারণ বোলিং নৈপুন্যে বাংলাদেশকে ম্যাচে রেখেছেন তাইজুল। দ্বিতীয় দিন দারুণ কিছু কোরে দেখাতে হবে টাইগার বোলারদের।

সূত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি

সর্বশেষ - ময়মনসিংহ