শনিবার , ৭ মে ২০২২ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকুরীর খবর
  10. ঢাকা
  11. ফটোগ্যালারি
  12. বরিশাল
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিবিধ

রোগীকে আটকে রেখে ৯ লক্ষ টাকা বিল

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ৭, ২০২২ ৮:২৮ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আপনার রোগী আর এক ঘণ্টা বাঁচবে। দ্রুত প্রাইভেট হাসপাতালে না নিলে পথিমধ্যে রোগী মারা যাবে। ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার আগেই মারা যাবে।’

 

এভাবেই রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা। এরা মূলত শিনশিন জাপান হাসপাতালের দালাল হিসেবে নিয়োজিত। রোগী প্রতি কমিশনে কাজ করে থাকেন বলে জানান ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা।

 

এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত শিনশিন জাপান হাসপাতালের বিরুদ্ধে। রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ব্যবসায়ীরা একই অভিযোগ করেন।

জানা গেছে

রোগী মারা যাওয়ার পরেও তারা আইসিইউও তে রেখে লাখ লাখ টাকা আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে।

 

 

 

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিনশিন জাপান হাসপাতালে গত ১৩ এপ্রিল গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জ থেকে এসে ভর্তি হয় আব্দুল লতিফ নামের এক রোগী। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত নিয়ে ভর্তি হন সেখানে। ঢাকা মেডিকেলে না গিয়ে শিনশিন জাপান হাসপাতালে কি করে এলেন তার বর্ণনা দেন রোগী আব্দুল লতিফের মা নাজমা বেগম।

 

তিনি জানান, গত ১৩এপ্রিল সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পরে গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জ থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। টঙ্গি আসার পরে এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বলেন রোগীর অবস্থা খারাপ এক ঘণ্টা বাঁচবে। দ্রুত প্রাইভেট হাসপাতালে নিতে হবে।

 

এরপর কৌশলে অল্প খরচে ভালো চিকিৎসার কথা বলে ভর্তি করানোর পরে চলে টাকার জন্য নানা চাপাচাপি।

 

আব্দুল লতিফের মা বলেন, “চিকিৎসা বাবদ এরমধ্যে চার লাখ টাকা পরিশোধ করেন তারা। যার প্রতিটি টাকা মানুষের থেকে সাহায্য তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

আব্দুল লতিফের স্ত্রী পারুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা এতো টাকা বিল দেখে সাত দিনের মাথায় রোগীকে অন্যত্র নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো ৫লাখ টাকা দাবী করেন। তাদের টাকা দিতে না পারার কারণে আমার স্বামীকে হাত-পা বেঁধে রাখেন ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান উত্তরা পশ্চিম থানার এস আই সামসুল, হাসপাতালটির জিএম শরিফ ও ওয়াকি টকি হাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ভিকটিমের স্বজনদের সাথে টাকা আদায়ে খারাপ আচরণ করছে। সাংবাদিকদের কেনো জানানো হলো এই অপরাধে এস আই সামসুল ভিকটিমের স্বজনদের একজনকে আটক করে পুলিশের গাড়ীতে উঠানোর চেষ্টা করে। পরে সাংবাদিকদের জেরার মুখে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা ওয়াকিটকি হাতে পোষাক ছাড়া ওই ব্যক্তি প্রতিবেদককের উপর চড়াও হন।

 

 

 

হাসপাতালটির জিএম শরিফুল ইসলাম তখন নিজেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের এপিএস হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু নাম বলতে চান নি তিনি। অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতে অনুসন্ধান চলছে। এই ঘটনা চলাকালীন সময়ে সুযোগ বুঝে কৌশলে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন ওই ব্যক্তি। তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেয়া হয় ভিকটিমকে।

 

শুধু এই ঘটনাই নয় হাসপাতালের সামনে একাধিক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এভাবেই রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা।

 

তারা আরো জানায়, রোগী মারা যাবে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করে অল্প খরচে শিনশিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর কথা বলে ভর্তি করানো হয়। এরপর বেড়িয়ে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আসল রুপ।

 

এ বিষয়ে জানতে শিনশিন জাপান হাসপাতালের পরিচাল শরিফকে ফোন দিলে সব মিথ্যা কথা বলে উরিয়ে দেয় এবং প্রতিবেদককে দেখা করার জন্য বলেন।

 

উত্তরা জোনের ডিসি মোর্শেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন,বিষয়টি তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ - ময়মনসিংহ